কাটাঘুড়ি ১৪.০১.২০২১

কাটাঘুড়ি ১৪.০১.২০২১

কতো কথা রয়ে যায় বাকি!

 

সুরসম্রাট আলাউদ্দিন আলী ভাই আমাকে দুটো গান উনার একটা মিক্সড অ্যালবামে গাওয়ালেন।উনার স্ত্রী সালমা আলী অসুস্থ। কিডনি রিপ্লেস হবে। অনেক টাকা দরকার। উনি বললেন নগদ টাকা না দিয়ে বরং তোমরা আমাকে গান গেয়ে দাও।তাই সই।অতোবড়ো মানুষ, তিনি যা বলবেন তাই।আমার ভাগে পড়লো দু’টো গান।একটা শ্রদ্ধেয় কুমার শানুর সঙ্গে আরেকটা শ্রদ্ধেয় সুদের ওয়াদেকরের সঙ্গে। কুমার শানুজীর সঙ্গে গানটি নিরেট রোমান্টিক গান।এই রাত অক্ষয় হোক, দারুণ গান।আমি একটু রোমাঞ্চিত বটে।কুমার শানুজীর সঙ্গে তো আর গাইনি।না,ভুল বললাম,ভারতীয় ছবির প্লেব্যাক করেছি।উনি বোম্বেতে গেয়েছেন, আমার ডাবিং আমি করেছি কোলকাতায়।এবারও কোলকাতা থেকে উনার ভয়েস ডাব করে আনা হয়েছে। আমি গেয়ে দিলাম ডন স্টুডিও তে।গান গাইছি, আলী ভাই কিছুই এক্সপ্রেসশন বলে দিচ্ছেন না।উনার মাথায় উনার স্ত্রীর চিকিৎসার চিন্তা।আমি নিজেই আবেগ অনুভূতি যা পারি দিয়ে গাইলাম। আমার গান কেমন হলো আলী ভাই তাও বললেন না।আমি একটু মনে দুঃখ পেলাম। মনে হলো কুমার শানুর সঙ্গে আমার স্ট্যান্ডার্ড অনেক উঁচুনিচু হয়ে গেছে। গান হয়তো ম্যাচই হয়নি।যাইহোক। দ্বিতীয় গান সুদেশ ওয়াদেকরের সঙ্গে। উনি ক্লাসিকাল বেইজের অন্য ধরনের শিল্পী।উনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গাওয়া কঠিন বটে।উনার সঙ্গের গানটি রাগভিত্তিক গান।রাগ ইমনের উপর অপূর্ব পেলব রোমান্টিক কিন্তু কারুকার্যময় গান। দু’টি গানেরই গীতিকবি শ্রদ্ধেয় রফিক উজ জামান সাহেবের। দ্বিতীয় গানটি যেন সুরের চেয়ে লেখা ভালো নাকি লেখার চেয়ে সুর ভালো এই প্রতিযোগিতার ব্যাপার চলছে।আমি সেই প্রতিযোগিতার ভেতর ঢুকে গেলাম নিজে নিজে। আমি জানি এ গানেও আলী ভাই কিছু দেখিয়ে দেবেন না।সত্যিই উনি ছেড়ে দিলেন আমার উপর। আমি মন প্রাণ ভরে গাইলাম।অন্যদের কেমন লেগেছে জানিনা তবে আমার নিজের পছন্দের তালিকায় খুবই পছন্দের ও গুরুত্বপূর্ণ গান হয়ে আমার গানের লিস্টে জায়গা করে নিলো।সুরসম্রাট আলাউদ্দিন আলী ভাইয়ের কাছে গান দু’টোর জন্য চির কৃতজ্ঞ হয়ে রইলাম। আমরা উনাকে এতো তাড়াতাড়ি হারিয়ে ফেলবো কখনও ভাবিনি।এতো প্রাণচঞ্চল কর্মদীপ্ত মানুষ যে কখনও ভাবনাতেই আসেনি যে এভাবে চলে যাবেন! আমি খুবই উনার খালি জায়গাটা নিয়ে স্মৃতি চারন করি।আমার এই অনুভব আমি কাউকে বোঝাতে পারবো না।

 

কার্টেসি: প্রাণের বাংলা